Category

ভাইবার নাকি ওয়াসটঅ্যাপ কোন সোশ্যাল ম্যাসেজিং সাইট ভালো ?

ভাইবার নাকি ওয়াসটঅ্যাপ
www.bloggerbd.info

সোশ্যাল মেসেজিং সাইটতো আমরা সবাই ব্যবহার করি হতে পারে একটু কম বা এাটু বেশি।এই পৃথিবীতে এমন সাইটেরও অভাব নেই।তাই এটির ব্যবহার নিয়ে কোন সন্দেহ করার কোন কথা নয়।


সোশ্যাল মেসেজিং সাইটগুলোর মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় সাইট হল ওয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার, ভাইবার, মেসেন্জার, ইমু, লার্ন, উইচ্যাট সা আরো অনেক।যখন আমরা এগুলো ব্যবহার করি তখন কখনোই চিন্তা করি না এগুলো ভালো না খারাপ।



আমরা শুধু দেখি আমাদের প্যামিলি মেম্বার বা বন্ধুরা কোনটি ব্যবহার করছে আর আমরা সেটা দেখে সেটি ব্যবহার করতে থাকি।তবে আপনি কি জানেন আপনি যে অ্যাপটি ব্যবহার করছেন সেটি কেমন এবং সেটিতে কি দরনের ফিচার রয়েছে।



যদি আমাদের দেশের কথা চিন্তা করি তাহলে বিটিআরসির মতে সোশ্যাল সাইটের রেঙ্কিং হবে নিম্নরূপ -



১. ফেসবুক মেসেঞ্জার 


এটি বাংলাদেশে সবচেয়ে বহুল ব্যবহিত সোশ্যাল মেসেজিং সাইট।এটি ব্যবহার করেন নি তেমন লোক খুজে পাওয়া খুব কঠিন।প্রায় সমস্ত ফেসবুক ব্যবহারকারিই এটি ব্যবহার করছেন।তবে বেশির ভাগই মেসেজের জন্য ব্যবহিত হয়। এছাড়াও অডিও ও বিডিও কল করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে এটির ৪০ মিলিয়নের বা ৪ কোটিরও বেশি লোক এটি ব্যবহার করেন।


২. ইমু



এটিও আরেকটি জনপ্রিয় সাইট এটি ব্যবহার করেন নি এমন লোকও খুজে পাওয়া যায় না।

যদিওবা ইমুতে অনেক বিরক্তিকর পিচার রয়েছে যেগুলো মাথা খারাপ করার মতো।যাইহোক এটির ব্যবহারকারি বাংলাদেশে ২৫ মিলিয়নে বা ২.৫ কোটির মতো। 



৩. ওয়াটসঅ্যাপ



এটিও অরেকটি ভালো সোশ্যাল মেসেজিং সাইট। এটি ব্যবহারকারিও কম নয় বর্তমানে ওয়াটসঅ্যাপ বাংলাদেশে প্রায় ২০ মিলিয়ন বা ২ কোটি লোক ব্যবহার করে।



৪. ভাইবার



আরো একটি ভালো সোশ্যাল সাইট হল ভাইবার। যদিওবা আমাদের দেশে এর জনপ্রিয়তা খুব কম বা ব্যবহারকারি কম। এর ব্যবহারকারি বাংলাদেশে ৪.৫ মিলিয়ন বা ৪৫ লাখের মত প্রায়।



বুঝতেই পারছেন মানুষ না বুঝে ভুল সাইটে তাদের সোশ্যাল মেসেজিং সাইট ব্যবহার করছে।হ্যাঁ আমি ইমু এবং মেসেঞ্জার ব্যবহারকারি দের বলছি আপনারা ভুল সাইট ব্যবহার করছেন।এইসব সাইটে ভালো মানের পিচার পাওয়া যায় না।



সেই তুলনায় ওয়াটসঅ্যাপ এবং ভাইবার অনেক উন্নত এবং ব্যবহার করা সহজ।তাই আজকে ওয়াটসঅ্যাপ বনাম মেসেঞ্জার একটা তুলনা প্রকাশ করব।এতে করে বুঝতে পারবেন যে কোনটা বেশি ভালো অথবা ভালো হতে পারে আপনার জন্য।



ওয়াটসঅ্যাপ বনাম ভাইবার এর পার্থক্য দেখলে বুঝতে পারেন যে কোনটা আপনার ব্যবহার করা উচিত। এছাড়াও বুঝতে পারবেন সস্তা কোয়ালিটির অ্যাপ ব্যবহার করে কতো ভুল করছেন।



এখন ওয়াটসঅ্যাপ এবং ভাইবারের মধ্যে এাটা তুলনামূলক পার্থক্য তুলে ধরব যেটা আপনাকে সাহায্য করবে।এখন ১০ টি বিশেষ কাজ নিয়ে এই পার্থক্যটা করব যেগুলো নিম্নে দেওয়া হল - 



ওয়াটঅ্যাপ এবং ভাইবারের পার্থক্য



১. ইউজার ইন্টারপেস বা ইউজার প্রেন্ডলি



ইউজার ইন্টারপেস হতে পারে আপনার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারন আপনি যখন কোন মেসেজ বা কলের জন্য সেখানে যাবেন তখন সেটা ভালো হওয়া উচিত যাতে করে আপনার ব্যবহারটা আরেকটু খানি সহজ হতে পারে।



ওয়াটসঅ্যাপ



আমরা যদি ওয়াটসঅ্যাপে ডুকি আমরা খুব স্বাচ্ছন্দ ফিল করি।কারন এটি সম্পূর্ন ক্লিন একটি সাইট।তাই ব্যবহার করতে মজা পাওয়া যায়।এছাড়াও কোন প্রকারের লেকেরও কোন সমস্যা থাকে না।যারা তেমন কিছুন জানে না তাদের জন্যও এটি ব্যবহার করা খুব সোজা হয়ে থাকে।খুব বেশি ফিচার ইন্টারপেসে পাওয়া যায় না।কলিং,মেসেজিং, এটাচমেন্ট, ক্যামরাসহ খুব সিম্পল যেটা ইউজা ফ্রেন্ডলি।



ভাইবার



অপরদিকে আমরা যদি ভাইবারের দিকে দেখি আমরা বুঝতে পারব এটা অতটা ইউজার ফ্রেন্ডলি না।কারন এখানে নানান রকম ফিচার দিয়ে বর্তি থাকে।এখানে অন্য সব দরকারি অপশন ছাড়াও স্টিকার সাচেষ্ট করা হয়, অনেক রকম এড সাচেষ্ট করা হয় অনেক পাবলিক প্রোপাইল সাচেষ্ট করবে এই কারনেই এটা ইউজার ফ্রেন্ডলি নয়।



ইন্টারপেসের কথা বলতে গেলে ভাইবার থেকে ওয়াটসঅ্যাপ অনেক সহজ হয়ে থাকে তাই এখানে ওয়াটঅ্যাপ জিতে গেল।



২. ভাইবার নাকি ওয়াসটঅ্যাপ জনপ্রিয়



যদি ওয়াটসঅ্যাপ এবং ভাইবারের মধ্যে জনপ্রিয়টা খুজতে হয় তবে দুইটা ফেক্ট মাথায় রাখতে হবে।প্রথমত কোন বিশেষ জায়গা দ্বিতীয়ত পুরো পৃথিবীর জুড়ে। 



#রিজিওনাল



এটি বলা খুব কঠিন কারন অনেক জায়গায় অনেকরকমভাবে এইগুলো ব্যবহার করা হয়।


ভাইভার অনেক জায়গায় অধিক ব্যবহার করা হয় কিন্তু অনেক জায়গায় অনেক কম ব্যবহার করা হয়।আমেরিকা এবং ইউরোপের দিকে ভাইভারের জনপ্রিয়তা বেশি।সেই তুলনায় ওয়াটসঅ্যাপ কম জনপ্রিয় ঐ সকল জায়গায়। 



#ফুল ওয়াল্ড


যদি পুরে পৃথিবীর কথা বলতে হয় তাহলে ওয়াটসঅ্যাপ অনেক বেশি জনপ্রিয়। যেটি ওয়াটসঅ্যাপের গুগল প্লেস্টোরে ইনস্টল সংখ্যা দেখলেই বুঝা যায়।

বর্তমানে ভাইভারের ডাউনলোড সংখ্যা ৫০০ মিলিয়নের বেশি।আবার ওয়াটসঅ্যাপের ডাউনলোড সংখ্যা ৫ বিলিয়নেরও বেশি। 



তাই চোখ বন্ধ করে বলা যায় ওয়াটসঅ্যাপের জনপ্রিয়তা অনেক বেশি।তাই এক্ষেত্রেও ওয়াটসঅ্যাপ জিতে যাবে।



৩. ভাইবার , ওয়াসটঅ্যাপ সাপোর্ট করা ডিভাইস 



এটিও অনেক দরকারি একটি পার্থক্য। আপনাকে জানতে হবে কোনটি কোন ডিভাইসে চলতে পারে।


ওয়াটসঅ্যাপ


ওয়াটসঅ্যাপ বিভিন্ন ডিভাইসের জন্য তৈরি করা হয়েছে। আপনি চাইলে জনপ্রিয় সমস্ত ডিভাইসে এটি ব্যবহার করতে পারেন।ওয়াটসঅ্যাপ Android, Ios, Window এবং একটি ওয়েবসাইট রয়েছে।তবে উইন্ডোজে এবং ওয়েবসাইটে সকল ফিচার পাওয়া যায় না যেগুলো এনড্রোয়েড এবং আইওস পাওয়া যায়।


ভাইবার


ভাইবারতো আপনার দরকারী সমন্ত ডিভাইসে চালাতে পারেন। তাই আপনার কাঙ্ক্ষিত ডিভাইস খুজে পেতে বেশি সময় লাগবে না।ভাইবার Android, Ios, Window, Linux এব্যবহার করা যায়।মজার ব্যাপার হল পত্যেকটা ডিভাইসে সম্পূর্ন ফিচার পাওয়া যায় যেটা অনেক ভালো।



ভাইবারের অপারেটিং সিস্টেম বেশি থাকায় এবং সবগুলোতে সব রকম ফিচার পাওয়ার জন্য বলাই যায় এখানে ভাইবার জিতে যায়।



৪. অডিও ও ভিডিও কল 



এক্ষেত্রে আপনাকে অনেক কিছু বিবেচনা করতে হবে। আপনার নেটওয়ার্ক এবং আপনার ডিভাইসের উপর আপনার কল কোয়ালিটি নির্ভর করবে।আমার দুটো ব্যবহার করার এক্সপেরিয়েন্স রয়েছে তাই দুটোই সমান মনে হয়। এছাড়াও ভাইবারে রয়েছে Viver Out নামক অপশন।এই ফিচারটি দ্বারা কেউ ভাইবার ব্যবহার না করলেও তাকে কল করা যাবে।এটি অনেক ভালো একটি ফিচার।


ভাইবারের viver out অফশনটির জন্য ভাইবারকে জয় দেওয়া লাখবে এখানে।



৫. চ্যাটগ্রুপ 



ভাইবার এবং ওয়াটসঅ্যাপ দুই অ্যাপে খুব ভালো ভাবে চ্যাটগ্রুপ তৈরি করা যায়।আপনি চাইলে আপনি আপনার বন্ধুতের নিয়ে চ্যাটগ্রুপ তৈরি করতে পারেন। 


এক্ষেত্রে কাউকে জয়ি বলা যায় না দুটোকেই সমান বলা যায়।



৬. পাবলিক প্রোপাইল বা বিজনেস প্রোপাইল



এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়।আপনি যদি একজন সেলিব্রেটি হন তবে আপনার অবশ্যই ভাইবার ব্যবহার করা উচিত করন। কারন ভাইবারে এই ধরনের একটা সুযোগ আছে যে একটা বিজনেস একাউন্ট খুলে সেখানে আপনার কাঙ্ক্ষিত কিছু প্রমোট করাতে পারেন।আপনি চাইলে আপনার একটা প্রাইভেট একাউন্ট করে একটা ট্রাপিক তৈরি করতে পারেন যার ফলে আপনি খুব সহজেই অন্যের সামনে আসতে পারেন আপরি চাইলে এটিকে একমুখী করতে পারেন সেটি হল আপনি শুধু বলবেন আর অন্যরা শুনবে।এক্ষেত্রে ভাইবারে এই সমস্ত ফিচার পাওয়া যাবে।

অপরদিকে ওয়টসঅ্যাপে এই ধরনের কোন ফিচার নেই।


এইক্ষেত্রে সিউর করে বলা যায় যে ভাইবার জয়ি হয়েছে।



৭. হিডেন চ্যাট বা সিক্রেট চ্যাঠ



ভাইবারে রয়েছে অসাধারণ একটা পিচার সেটি হল হিডেন চ্যাট। আপনি চাইলে একবার চ্যাট করে নির্দিষ্ট একটা টাইম সেট করে দেওয়া যাবে যার মাধ্যসে ঐ চ্যাট মুঝে যাবে।

অপরদিকে ওয়াটসঅ্যাপে এই ধরনের কোন পিচার নেই।


এক্ষেত্রে এই পিচারের জন্য ভাইবার এগিয়ে যাবে।



৮. ফাইল শেয়ারিং 



ভাইবার এবং ওযাটসঅ্যাপ দুটোর মাধ্যমেই ফাইল শেয়ার করা যাবে।তবে দুটোতেই এটা লিমিটেড। 

ওয়াটসঅ্যাপে সর্বোচ্চ ১০০ মেগাবাইটের ফাইল শেয়ার করা যায় অন্যদিকে ভাইবারে ২০০ মেগাবাইটের ফাইল শেয়ার করা যায়।


এক্ষেত্রে নিশ্চিত ভাইবার জয় লাভ করেছে।




ওভারওল বলতে গেলে ভাইবার ওয়াটসঅ্যাপ থেকে এগিয়ে রয়েছে।তাই ভাইবার নাকি ওয়াসটঅ্যাপ নিশ্চিত ভাবে বলা যায় ভাইবার ব্যবহার করা ভালো।তবে আপনার কোনটা ব্যবহার করা প্রয়োজন সেটা আপনি বুঝবেন।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

4 মন্তব্যসমূহ